মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন

৬০০ বছরের ঐতিহ্যে ছেদ: কুমিরশূন্য খানজাহান আলীর দিঘি, ক্ষুব্ধ ভক্ত ও এলাকাবাসী

বাগেরহাট প্রতিনিধি, নিউজ ডেস্ক ॥
বাগেরহাট: দীর্ঘ ৬০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কুমিরশূন্য হয়ে পড়ল বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী দিঘিটি। গত বুধবার (৩ জুন) দিঘির সর্বশেষ কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। প্রিয় ‘ধলা পাহাড়’কে হারিয়ে মাজারের খাদেম, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা। ঐতিহ্য ফেরাতে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ঐতিহ্যের সূচনা ও বর্তমান সংকট
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪৫৯ সালে মৃত্যুর আগে হজরত খানজাহান আলী (রহ.) নিজেই এই দিঘিতে ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। সেই থেকে কয়েকশ বছর ধরে তাদের বংশধরেরা এই দিঘিতে বিচরণ করে আসছিল। ২০১৫ সালে সর্বশেষ বংশধরটির মৃত্যুর পর দিঘি কুমিরশূন্য হয়ে পড়লে ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কুমির এখানে ছাড়া হয়। গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দুটি কুমির থাকলেও একটির মৃত্যুর পর কেবল একটিই অবশিষ্ট ছিল।

কেন সরিয়ে নেওয়া হলো সর্বশেষ কুমিরটি?
সম্প্রতি ফাতেমা আক্তার নামে এক শিশু দিঘির পাড়ে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বন বিভাগ গত বুধবার (০৩ জুন ২০২৬) কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আর এর মাধ্যমেই ৬০০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন ঐতিহ্যে যতি পড়ল।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও যুক্তি
মাজারের খাদেম থেকে শুরু করে সাধারণ দোকানি- সবার মাঝেই বইছে প্রতিবাদের ঝড়।

স্থানীয় দোকানি বিনা আক্তার বলেন, “সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মানুষ মারা গেলে কি বন বাঘশূন্য করা হয়? তবে কেন দিঘির ঐতিহ্য কেড়ে নেওয়া হলো?”

কুমিরের বন্ধু হিসেবে পরিচিত যুবক মেহেদী হাসান তপু বলেন, “নিজ হাতে ধলা পাহাড়কে বন বিভাগের হাতে তুলে দিয়েছি, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দিঘিটি এখন খাঁ খাঁ করছে।”

প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, “একটি দুর্ঘটনার জন্য পুরো ঐতিহ্য মুছে ফেলা ঠিক হয়নি। ঈদের সময় হাজার হাজার মানুষ এই কুমির দেখতে আসে। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘাটে গ্রিল দেওয়ার ব্যবস্থা করব, তবুও আমাদের ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দাবি
মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, দিঘির চারপাশ বা নির্দিষ্ট ঘাটে ফেন্সিং (বেষ্টনী) দিয়ে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। ঐতিহ্য ও নিরাপত্তা-উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে দিঘিতে কুমির ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাগেরহাটবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com